ভারতে রুপির বিনিময় হার চলতি সপ্তাহে কমেছে। এছাড়া পর্যাপ্ত সরবরাহ ও নিম্নমুখী চাহিদার কারণে ভারতে এখনো নিম্নমুখী চালের দাম। অন্যদিকে এ সময় এশিয়ার অন্যান্য প্রধান রফতানি বাজারগুলোয় তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল চালের দাম। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ভারতে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৩৮২-৩৮৯ ডলার, যা গত সপ্তাহের ৩৮৪-৩৯১ ডলারের তুলনায় কিছুটা কম। এ সময় দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৩৭৫-৩৮১ ডলার।
একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নয়াদিল্লিভিত্তিক এক ডিলার বলেন, ‘রুপির বিনিময় হার দুর্বল হওয়ায় রফতানি মূল্য কমছে। এছাড়া চাহিদাও বেশ নিম্নমুখী।’
শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে চালের দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। তবে সামনের দিনগুলোয় দাম আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও ভারতের অতিরিক্ত মজুদ ও এশিয়ায় আশানুরূপ ফলনের কারণে এ বছর বড় কোনো মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনাও নেই।
থাইল্যান্ডে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৪০৫-৪১০ ডলার, যা গত সপ্তাহের ৪১০ ডলারের তুলনায় কিছুটা কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ দরপতন মূলত মুদ্রা বিনিময় হারের তারতম্যের কারণে ঘটেছে। এছাড়া চালের চাহিদাও বাড়ছে না।
ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে এর আগে চাল আমদানির পরিমাণ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে দেশগুলোয় সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বেড়েছে। এ কারণে চালের আমদানি-রফতানিও কমেছে।’
অন্য একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘গ্রাহকেরা দাম কমার জন্য অপেক্ষা করছে, তবে কিছু লেনদেন এখনো হচ্ছে।’
তিনি জানান, বাজারে চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। জুলাইয়েও সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম গত বৃহস্পতিবার ছিল টনপ্রতি ৩৯৭ ডলার। এক সপ্তাহ আগেও দেশটিতে একই মানের চাল এ দামে বেচাকেনা হয়েছে।
হো চি মিন সিটির এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘অন্যান্য দেশে চাহিদা কম থাকার কারণে ভিয়েতনামের অভ্যন্তরেও ধানের দাম কমেছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম-বর্ষা মৌসুমে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, মেকং ডেল্টায় চলতি সপ্তাহে প্রতি কেজি ধানের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজার ৮০০ ডং, এর আগের সপ্তাহে যা ছিল কেজিপ্রতি ৫ হাজার ৪০০ থেকে ৭ হাজার ২০০ ডং।